২২শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
রাজশাহীর চারঘাটে ছেলেধরা সন্দেহে ৫ এনজিও কর্মীকে... এসএমপির ১৬ নারী কনস্টেবলকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান দুর্গাপুরে ছেলেধরা সন্দেহে আটক – ১ কলারোয়ার বাঁটরায় বর্ষা মৌসুমের টমেটো চাষে আগ্রহ বাড়ছে... রিফাত হত্যা : রিশান ফরাজীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

সফুরা বেগমের পাওয়া না পাওয়ার গল্প

 বিশ্বনাথ দাস সমকাল নিউজ ২৪

সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও আশা-নিরাশা নিয়েই একজন মানুষ। প্রতিটি মানুষের জিবনে এগুলোই আছে। পৃথিবীতে কেউ সবদিক দিয়ে সুখি হয় না। কোন না কোন দিক দিয়ে কমতি থাকে সবার মাঝেই। জীবন যুদ্ধে কেউ টিকে থাকে কেউবা আবার নিঃস্ব হয়ে যায়, এটাই বাস্তবতা। আর এই ধারা প্রবাহমান করে চলছে প্রতিটি মানুষ। ষাটোর্দ্ধ সফুরা বেগমের জীবনেও রয়েছে পাওয়া না পাওয়ার অনেক গল্প। সে গল্পই আজ জানাব আপনাদের।

 

গিয়েছিলাম আড়ানী পৌরসভার সাত নং ওয়ার্ডের মোমিনপুর গ্রামে। দেখা মিলল চুল পাকা এক মহিলার সাথে। নাম সফুরা, বয়স ৬৫। তাঁর স্বামী জমির উদ্দীন তাঁতের কাজ করতেন। সেখানে যা উর্পাজন হত তাতে তাদের খেয়ে পরে মোটামুটিভাবে দিন চলে যেত। এতে তাদের কোনো দুঃখ ছিল না। কিন্তু তাদের কোনো সন্তান নেই। তাই তারা মাঝে মধ্যে এই কষ্টটা অনুভব করতেন। ভাবতেন তাদের যদি একটা সন্তান থাকতো তাহলে আর পাঁচ-দশটা সংসারের মত তাদের সংসারটাও পরিপূর্ণ হতো। এমন আকাঙ্খা তাদের মনের মধ্যে মাঝে মাঝে নাড়া দিয়ে উঠতো। তাদের মধ্যে সবসময় একটা ভাবনা লেগেই থাকে। বয়স হয়ে গেলে তারা কিভাবে চলবে? কে দেখবে তাদের, আর সেবা-যন্তই বা কে করবে?

 

এদিকে সফুরার স্বামীর দিন দিন বয়স বেড়ে যাওয়ায় নানা ধরণের রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে শরীরে। অনেক টাকার ঔষধও খেতে হয় তাকে। কিন্তু ফলাফল কিছুই হয়নি। এমতাবস্তায় হঠাৎ করেই ২০১৭ সালের শেষের দিকে সফুরার স্বামী মৃত্যু বরণ করেন। আপন বলতে দুনিয়ার বুকে তাঁর আর কেউ রইলনা। যার উপর ভর করে তাঁর সংসার চলত। যিনি ছিলেন সুখ-দুঃখের একমাত্র সঙ্গী। কিন্তু সেও সফুরাকে ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। ফলে সফুরা হয়ে পড়েন এক্কেবারই একা। জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।

 

স্বামীকে হারিয়ে খুব দুঃখ দুর্দশায় দিন কাটতে লাগলো তাঁর। কিন্তু সফুরা বেগম আর দশটা মহিলার মত নন। তিনি কর্মঠ-পরিশ্রমী, কাজ পাগল একজন মানুষ। তাই কিছু পাওয়া না পাওয়ার কষ্ট ভুলে গিয়ে তিনি আবার নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। স্বামীর রেখে যাওয়া তাঁতের মেশিনে তিনি এখন কাপড় বুনছেন। এভাবেই তিনি সংসারের চাকা ঘুরাচ্ছেন।

 

তবে এভাবে আর কত দিন? তাঁরও রীতিমত অনেক বয়স হয়েছে। চোখে ভাল দেখেন না, হাত-পায়ে আগেম মত শক্তিও পান না। কাজ করতে এখন তার অনেক কষ্ট হয়। তিনি যে কাজ করেন তাতে তাঁর পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা আয় হয়। এই উপার্জনে সংসার চলেনা। এরমধ্যে আবার মাসের বেশির ভাগ দিনই তিনি অসুস্থতার জন্য কাজ করতে পারেন না। ফলে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে দিন চলছে তাঁর। তাকে দেখার মত কেউ নেই। এই পর্যন্ত তিনি কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি। বিধবা ভাতার কার্ডও জোটেনি তাঁর কপালে। তবে সবাই যদি সদয় হন এবং সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু এগিয়ে আসেন তবে তিনি বাঁকি জীবনটা একটু খেয়ে পরে কাটাতে পারবেন বলে মনে করেন সফুরা বেগম।

 

লেখক: বিশ্বনাথ দাস, কমিউনিটি মিডিয়া ফেলো, বাঘা-রাজশাহী

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে