১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
জোছনা উৎসব ২০১৯ এর প্রেস কনফারেন্স । দুর্গাপুর উপজেলা কে বাল্যবিবাহ মুক্ত রাখতে শপথ সিলেটে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের... বগুড়ায় যানবাহনের চাকায় থেঁতলে যাওয়া লা’শ উ’দ্ধার নাঙ্গলকোটে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

সব হারিয়ে যাযাবরের দূর্বিসহ জীবন যাপন।

 এম কিউ হোসাইন বুলবুল, ফরিদপুর প্রতিনিধি। সমকালনিউজ২৪

নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সব হারিয়ে যাযাবর অথবা বেঁদে নামের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বিচ্ছিন্ন অংশের দূর্বিসহ জীবন যাপন মানুষের মনকে ভীষনভাবে নাড়া দেয়। সমাজের মূল স্রোত থেকে প্রকিৃতর নিয়মে আলাদা হয়ে,সব হারিয়ে জীবন আর জীবিকার তাগিদে এরা পাখি শিকার, সাপ-বানরের খেলা দেখানো, সিংগা লাগানো,ডুবুরীর কাজ, কড মাছের তাবিজ বিক্রি , পাখি শিকার সহ এলাকায় এলাকায় ঘুরে গ্রামের মানুষের টয়লেট পরিস্কার করা আর জড়ি-বটির চিকিৎসাই এখন তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ। শিক্ষার আলো এদের কাছে পৌঁছায়না। ছোট ছোট কিশোরী আর তরুনীরা সাপ হাতে নিয়ে হাটে বাজারে ঘুরে বেড়ায়-উদ্দেশ্য হলো জীবিকার তাগিদে দু-টাকা কামাই করা আর তরুনরা মাঠে মাঠে ঘুরে করে পাখি শিকার করা। শিক্ষার আলো এদের কাছে পৌঁছায়না। যে ভাবে যাযাবর :- বাড়ী ছিলো মুন্সিগনজ জেলার, বিক্রমপুরের লৌহজং থানায়। পদ্মার ভাঙনে সর্বশান্ত হয়ে মানুষগুলো আজ আশ্রয়হীন। নিজের বলতে কিছুই নেই। স্ত্রী-পুত্র সন্তানাদি নিয়ে জীবন যাপন করছে পথে পথেই। বলতে বলতে দু-চোখের কোন বেয়ে দু-ফোঁটা অশ্রূ গড়িয়ে পড়লো ৬৫ বছর বয়সী মোসলেম সর্দারের। আক্ষেপ করে বললেন, শিবচরের “তনাই মোল্লা ’ চর দখলের পরও তাঁদের ঠাঁই মেলেনি একটু খানি মাথা গুজবার। সেই ১০০ বছর আগে বাবা বছির উদ্দীন সর্দার কোথাও ঠাঁই না পেয়ে পথে বেরিয়ে ছিলো, সে ভাবে আমাদেরও এ জীবন উপহার দিয়ে গেছে। শিবচর থানায় গুচ্ছগ্রাম হয়েছে, সেখানেও আমাদের জায়গা হয়নি । প্রধানমন্ত্রী ৫ই জানুযারীর নির্বাচনের মাত্র ৫ দিন আগে ভাঙায় এক মিটিংএ- আমাদেরকে পূর্নবাসন এর ওয়াদা করা সত্বেও কোন সমাধান আমরা আজও পাইনি। আমাদের নাম ঠিকানা সহ সবহারাদের তালিকা দিতে বললেন,আমরা তা দিয়েছি-ওয়াদা করলেন পূর্নবাসন করবেন তদুপরিও কোন ব্যবস্থা আমাদের জন্য হলোনা।

 

মোসলেম সর্দার এক প্রশ্নের জবাবে আরো জানান, মোকসেদপুর (গোপালগঞ্জ) এর বোয়ালিয়া গ্রামে আস্থায়িভাবে আমরা ৫০টি পরিবার ২০০ লোক নিয়ে তাবুর নিচে বসবাস করি। ঝড়-বৃষ্টির দিনে বেশী অসুবিধা হলে আশ্রায়ন ক্যাম্পে অথবা জায়গা থাকলে স্কুলে আশ্রয় নেই। সামর্থ নেই তাই যেখানে মরন সেখানেই কবর হয় আমাদের। সুখ যেমন, দু:খও আমাদের কাছে তেমন। আয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, প্রতিদিন ১শত টাকা থেকে ৩ শত টাকা পর্যন্ত আয়করে আমাদের জবিকা নির্বাহ করতে হয়। আবার কখনো অর্ধহারে, অনাহারেও দিন কাটে আমাদের। তিনি আরো জানান , কোন এলাকায় জীবন যাত্রা যখন দুর্বিসহ হয়ে ওঠে তখন আমারা সে স্থান পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় গিয়ে ঠাঁই খুঁজি। এভাবেই জীবন চরিত বর্ননা করলেন বেদে বহরের হান্নান সর্দার (৪০), মোসলেম সর্দার (৭৫), মঈন সর্দার (৪২), হারুন সর্দার (৩৫), কবিরা সর্দার (৩৮), শপিকুর সর্দাও (৪৫),আতাউদ্দিন সর্দার (৬০) ও তরফা সর্দার (৫৫)। এ বহরের,বয়স্ক ষাটোর্দ্ধ মহিলারা আরো জানান, বাচ্চারা অপুষ্টি জনিত কারনে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে, মায়েরা ও মাঝে মাঝে অঞ্জান হয়ে পড়বার কারনে আমাদের অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয় অধিকাংশ সময়। আর গর্ভধারনের প্রেক্ষিতে মায়েদের মৃত্যুঝঁকি তো আছেই। আমাদের এখন চাওয়া একটখানি মাথা গুজবার ঠাঁই, একটুখানি ঠিকানা-যেখানে ঘুমোতে চাই মৃত্যুর পরও। আমাদের সন্তানেরা যেন কবরের ঠিকানা খুঁজে পায়, আর কবর জেয়ারত করতে পারে। শিশু,কিশোর, তরুন-তরুনীরা শিক্ষার আলো নিয়ে সমাজের মূল স্রোতের সাথে মিশে যেন দেশ মাতৃকার উন্নয়নের কাজে অনান্যদের মতো অংশ গ্রহন করতে পারে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ফরিদপুর বিভাগের সর্বশেষ
ফরিদপুর বিভাগের আলোচিত
ওপরে