১৯শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৬ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ায় বিএনপি নেতা শাহীন হত্যাকান্ডে গ্রেফতার ২ বিশ্বকাপে নতুন যে অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবেন মোস্তাফিজ খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা, কিছুই জানে না বিএনপি ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা সেফুদাকে ধরিয়ে দিতে সুন্দরবনে ৯ ফুট লম্বা অজগর অবমুক্ত

সাংবাদিকের ওপর হামলা : মেয়রসহ আসামি ১০

 অনলাইন ডেস্ক সমকাল নিউজ ২৪

কক্সবাজারের মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার কাউন্সিলর ছালামত উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় তিন দিন পর অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার হয়নি কোনো আসামি।

এ ঘটনায় মামলা করায় মহেশখালী পৌর মেয়রের হুমকিতে আহত সাংবাদিকের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযো করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবারটি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাংবাদিক ছালামত উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি গত ২ এপ্রিল রাত ৯টায় পেশাগত কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে প্রেসক্লাব সংলগ্ন দীঘির পাড় থেকে তাকে ১০ থেকে ১২ সশস্ত্র সন্ত্রসী আমাকে অপহরণ করে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আয়োমী লীগের সভাপতি মকছুদ মিয়ার আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে মেয়র মকছুদ মিয়ার নেতৃত্বে হাতুড়ি, রডসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশে আমাকে মারধর করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে আমাকে মৃত মনে করে দক্ষিণ হিন্দুপাড়ার একটি গলিতে ফেলে রেখে যায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা আমার কাছ থেকে মুঠোফোন, টাকাসহ সমুদয় মালামাল নিয়ে যায়। এর পর এলাকার আামকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শাহিন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আহত ছালামত উল্লাহর অবস্থা সংকটাপন্ন। তাই তাকে গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ছালামত উল্লাহর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছাড়াও পা ও হাতের হাঁড় ভেঙ্গে গেছে। তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হবে।’

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছালামত অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়র মকছুদ মিয়া পৌরসভার হাট-বাজার, ঘাটসহ সব কিছু তার ভাই বিএনপি নেতাদের ভাগ ভাটোয়ারা করে দেন। এ ছাড়া তার নানা অপকর্ম নিয়ে আমি প্রতিবাদ করার পাশপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরি। এতে মেয়র আমার উপর ক্ষেপে যায়। যার কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা চেষ্টা করে।’

ছালামত উল্লাহর স্ত্রী জুলেখা বেগম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ৫ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও পুলিশ রাঘব বোয়ালদের তদবিরের কারণে মামলা নিতে গড়িমসি করে। সব শেষে আজ শনিবার দুপুরে আমি ও আমার শাশুড়িসহ আত্মীয় স্বজনরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান মহেশখালীর একটি অনুষ্টানে আসলে তাকে স্মারকলিপি দিয়েছি। সেই সাথে আমার স্বামীর ওপর হামলার ঘটনা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার পেলে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠে সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ। ফলে, মামলা নিতে বাধ্য হয় মহেশখালী থানা পুলিশ।’

জুলেখা বেগম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হলেন- পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মকছুদ মিয়া। অন্য আসামীরা হলেন- সামশু, রুবেল, মেয়রের ভাতিজা মিশাল, আবদুর রহমান, ফয়েজুল হক, নুর হোসেন, হাসান, বোরহান উদ্দিন ও এনাম।

মামলার বাদী জুলেখা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘মামলা করার পর থেকে মেয়রের পক্ষ থেকে আমাকে ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ‘মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনাকে আমরা খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছি। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।’

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে