২১শে মে, ২০১৯ ইং ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বেতাগীতে বৈদ্যুতিক আগুনে বসতঘর পুরে ছাই যশোরের শার্শায় স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য... বগুড়ায় পরকিয়ার টানে ৯০ দিনের সন্তান রেখে এক মা উধাও! বরগুনায় অপহরণের দুই মাস পর তরুণীকে উদ্ধার! ঢাকা-পাথরঘাটা লঞ্চ সার্ভিস চালুর দাবী!

সাপাহারে দখলদার লাঠিয়াল বাহিনীর রোষানলে পড়ে একটি পরিবার নিরাপত্তাহীন

 গোলাপ খন্দকার ,সাপাহার, নওগাঁ সমকাল নিউজ ২৪

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের কদমডাঙ্গা গ্রামে সংঘবদ্ধ ভুমি দখলদার ও লাঠিয়াল বাহিনীর রোষানলে পড়ে অসহায় একটি পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করছে।

থানায় দায়েরকৃত মামলা সুত্রে জানা গেছে ,উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের কদমডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দীন স্থানীয় দক্ষিন কোচকুড়লিয়া মৌজায় অবস্থিত প্রায় ১০ বিঘা সম্পত্তি পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিল। স¤প্রতি একই গ্রামের রবিউল ইসলাম গংএর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ ভুমি দখলদার লাঠিয়াল বাহিনী ওই সম্পত্তির ভুয়া দলিল তৈরী করে তা জবর দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল।

এ নিয়ে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে একাধীক মামলা মোকর্দমা বিদ্যমান রয়েছে। স্থানীয় ভাবেও উক্ত সম্পত্তির জটিলতা নিরসনে বার বার চেষ্টা করা হলেও উভয় পক্ষ সম্মত না হওয়ার কারনে তা সমাধান হয়নি। ঘটনার দিন গত ৭ই মার্চ দিবাগত রাত ২টার দিকে সম্পত্তির মালিক জালাল উদ্দীনের ছেলেগণ ওই জমিতে পানি সেচ দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লাঠিয়াল বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিবাদমান সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে ও তাদের কে পানি সেচে বাঁধা প্রদান করে।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটা কাটির এক পর্যায় দখলদারগণ সম্পত্তির মালিক জালাল উদ্দীনের দুই ছেলে ফারুক হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন কে ধরে হাতপা বেঁধে হাসুয়া বল­ম দ্বারা কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এতেও তারা ক্ষ্যান্ত না হয়ে দুই সহোদর কে ধরে পিঠমোড়া দিয়ে বেধে তাদের বাড়িতে নিয়ে আটক করে ও শারীরক ভাবে তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

এ সময় তাদের আত্মচিৎকারে স্থানীয় গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ফারুক ও তার ছোট ভাই দেলোয়ার কে উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করায়।

কদমডাঙ্গা গ্রামের দখলদার লাঠিয়াল বাহিনীর দ্বারা অমানুষিক নির্যাতনের শিকার দেলোয়ার হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক তিনি নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে অভিযোগ করেন যে প্রতিপক্ষের লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে স্বাভাবীক ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি যাতায়াত করতে পারছেন না। তার বড় ভাই নাজমুল ইসলাম স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএস সি শিক্ষক ও তার মেজ ভাই ফারুক হোসেন পেশায় গ্রাম্য ডাক্তার তারও নিজ নিজ কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছে।

প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের কে দেখা মাত্র খুন জখমের প্রকাশ্য হুমকী সহ তাদের চাকুরী খেয়ে ফেলার লক্ষ্যে তাদের নামে মিথ্যা নারী শিশু নির্যাতন মামলার হুমকী দিচ্ছে। সম্পত্তির মালিক ভুক্তভোগী জালাল উদ্দীনের পরিবারে পক্ষে বড় ছেলে নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে এ অমানুষিক নির্যাতনকারী লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গত ১১মার্চ সাপাহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি।

এ বিষয়ে দায়েরকৃত ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শাহারিয়ার পারভেজ জানান ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
নওগাঁ বিভাগের সর্বশেষ
নওগাঁ বিভাগের আলোচিত
ওপরে