১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন... চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সভাপন্ড।... ছাতকে শ্রীপতিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা... বালু উত্তোলনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে জাফলং সেতু বিরামপুরে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালন

সালথায় নিকাহ রেজিষ্টার কাজী কামরুলের নিজস্ব আইনেই কাবিনের ফি ধরা হয়

 বুলবুল,ফরিদপুর প্রতিনিধি, সমকালনিউজ২৪

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনয়নের নিকাহ রেজিষ্টার কাজী কামরুল হোসেন তার নিজের পাতানো আইনেই তিনি চলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চলে তার নিকাহ রেজিষ্টারের কাজ।

জানাযায় উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গৌড়দিয়া গ্রামের মৃত্যু সেকেন মাতুব্বরের পুত্র মোঃ রাকিবুল ইসলামের সাথে ২০১৩ সালের অক্টোম্বর মাসে, একই উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামের সহিদ শেখের মেয়ে মোছাঃ সাথী বেগমের বিবাহ হয়। বিয়ের সময় উভয় পক্ষের অভিভাবকদের সম্মতিতে ২ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধায্য করা হয়েছিল। পরে কয়েক বছর পর গত ২০১৮ সালে ২৩ ডিসেম্বর রাকিবুলের বড় ভাই মোঃ আব্দুল মাতুব্বর নিকাহ রেজিষ্টার কাজী কামরুলের নিকট যায় ঐ বিয়ের সার্টিফাই কপি (নকল) আনতে। কিন্তু তিনি তা দেবেন না বলে জানান। পরে তাকে শর্ত দেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা ও ব্লাঙ্ক (ফাকা) ষ্টাম্পে টিপ সহি দিতে হবে। এবং তাকে বোঝানো হয় যে আপনি (নকল) বুঝিয়া পাইবেন তাহার প্রমান আমি রাখলাম। বড় ভাই আব্দুল মাতুব্বর সহজ সরল বলে কোন কিছু না বুঝেই সাদা ষ্টাম্পে টিপ সহি দিয়ে দিলে কাজী সাহেব তাকে নিকাহ নামার নকল কপি দেয়। দেখা যায় দেনমোহরে ২ লক্ষ টাকার স্থালে ৫ লক্ষ করা হয়েছে।

বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রনোদিত তা আব্দুল মাতুব্বর বুঝতে পেরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমার ছোট ভাই দেশের বাহিরে থাকায় অভিভাবক হিসাবে কাজী মাওলানা কামরুল হোসেনের কাছে যাই বিবাহের নকল আনতে। তিনি আমাকে সাদা ষ্টাম্পে টিপ সহি ও ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কাবিনের নকল দেবে বলে জানায়। পরে আমি কোন কিছু বুঝতে না পেরে ১ হাজার টাকা ও সাদা স্টাম্পে টিপ সহির বিনিময়ে নকল পাই। এখন আমি শঙ্কিত যে ঐ সাদা স্টাম্পের টিপ সহি দিয়ে আমাকে হয়রানি করে কি না।

এদিকে কাজী কামরুলের বিরুদ্ধে এছাড়াও অনেক অভিযোগও রয়েছে। রেজিস্টার বহিতে বিবাহের দেনমোহরের জায়গা ফাকা রেখে এভাবে উৎকোচ নিয়ে ছেলে পক্ষ কিম্বা মেয়ে পক্ষকে সুবিধা দিয়ে থাকে। বাল্য বিয়ে, উৎকোচের বিনিময়ে গোপনে তালাক রেজিষ্টার সহ অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেখাযায় চলমান রেজিস্টার বহিতে ৫০ টি নিকাহ রেজিস্টী করা হয়েছে কিন্তু নিকাহ নামায় ফিস ও কাবিনের পরিমান লেখা হয়নি, শধুমাত্র বর ও কনের সাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও এলাকায় চাউর রয়েছে, সামান্য কাজী মওলানা হয়ে তিনি নিজস্ব প্রাইভেটকার নিয়ে বিয়ে পড়াতে যান ও চলাফেরা করেন দম্ভের সাথে ঢাকা গ-১১৪৬৭০ প্রাইভেট কার নিয়ে ঘুরে বেড়ান।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি নিকাহ রেজিস্টী ছাড়া অন্য কিছু করেন না। একমাত্র পেশা বিবাহ ও তালাক সম্পাদন কি করে তিনি প্রাইবেট কার ব্যবহার করেন- এত ইনকাম আসে কোথা থেকে।

এব্যাপারে নিকাহ রেজিস্টার কাজী কামরুরে কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাদা কাগজে টিপ সহি নিয়েছি তাতে আমার কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো না। আমি সময় সুযোগ বুঝে অঙ্গিকার নামা লিখে নিতাম। আর বিয়ের নকল নিতে টাকা লাগে এব্যাপারে তিনি বলেন, অনেক পেছনের বই খাতা খুজতে হয় সে জন্য কিছু খরচ লাগে।

এব্যাপারে ফরিদপুর জেলার সাবেক নিকাহ রেজিস্টার মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, নিকাহ রেজিস্টারের নকল নিতে কোন টাকা লাগে না এবং বিবাহের সময় উভয় পক্ষকে নকল কপি দেওয়ার কথা। মাঝারদিয়ার কাজী সাহেব যেটা করেছেন তা অনিয়ম।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ফরিদপুর বিভাগের সর্বশেষ
ফরিদপুর বিভাগের আলোচিত
ওপরে