২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে... নিজ দায়িত্বে শহর ও গ্রামকে পরিষ্কার না রাখলে মোবাইল... কোটচাঁদপুরে হেলমেট ছাড়া মিলবে না বাইকের তেল উজিরপুরের নারী নি’র্যাতনকারী সেই ওসি ও কনস্টেবলের... বালিয়াডাঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ০৭ দফা দাবিতে...

সীমানার বাহিরে, হারান পাল

 শিল্প-সাহিত্য সমকালনিউজ২৪

পূজাকে আজও স্পর্শ করেনি মোহন প্রায় পাঁচ বছর হলো তাদের ভার্চুয়াল লাইফ রিলেশন। পূজা ছিলো অগাধ জ্ঞানসম্পন্ন ও অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারিণী এক প্রতিমা স্বরুপ,তার রুপে ও গুনে সদা সর্বদাই মুগ্ধ ছিল মোহন।

পূজা প্রায়ই মিষ্টিসুরে গান গাইত, তার মন ভোলানো কোকিল কন্ঠ মোহনের হৃদয়ে দাগ কাটত।

মোহন গানের প্রতি ছিল প্রবল অনুরাগী কিন্তু তার বেসুরা গলার জন্য সে গান করতে সংকোচ বোধ করত। মোহন প্রায়ই গানের লিরিস্ক দিয়ে পূজাকে অনুরোধ করত গানটি গেয়ে শুনানোর জন্য,পূজা তার সুমধুর কন্ঠে সুধা ঢেলে গান রেকর্ড করে মাঝে মাঝে মেসেঞ্জারে মোহনকে শুনাতো। সবই ঠিকঠাক চলছিল হঠাৎ মোহন জেদ ধরে বসে ফোন নাম্বার চায় কিন্তু পূজা কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না।

দুজনের মধ্যে অনেক বাকযুদ্ধ হয় এক পর্যায়ে পূজা অনেক রেগে যায় এবং মোহনকে ব্লক করে দেয়। মোহন অনেক চেষ্টা করে পূজার সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তার নিজের ফেইসবুক এ্যাকাউন্ট পারমান্টেলি ডিলিট করে দেয়। মোহন কিছুতেই পূজার স্মৃথিগুলো ভুলতে পারছিল না, যেন তাদের জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক ছিল।মোহন নতুন এ্যাকাউন্ট খুলে,পূজাকে প্রথমে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। কিছুদিন পর তাদের দুজনের মধ্যে আবার ভাব হয়, অবশ্য মোহনই বেশী দুর্বল ছিল পূজার প্রতি।মোহন মনে মনে ঠিক করে নেয় পূজাকে প্রপোস করবে, যদিও তার ভয় ছিল যে যদি পূজা একসিপ্ট না করে আবারও থাকে ব্লক করে দেয়। এরই মধ্যে পূজার এক ঘনিষ্ট বন্ধুর থেকে মোহন জানতে পারে যে পূজা তার তিন বছরের সিনিয়র, মোহন প্রথমে কিছুটা দ্বিধান্বিত হলো পরক্ষণে তারে মনে পড়লো নচিকেতার সেই বিখ্যাত গান

“সে ছিল তখন উনিশ” এর দুটি লাইন”প্রেমে পরতে লাগে না বয়স লাগে না উনিশ-বিশ!” মোহন কিছুতেই হেরে যাওয়ার ছেলে ছিল না, সে দিন তো দিন পূজার প্রতি আর দুর্বল হতে থাকে।মোহন তার সীমানার বাহিরে যাওয়ার জন্য নতুন ফন্দি খুঁজে কিন্তু সে ব্যর্থ হয়! মোহনের ভালোবাসাটা ছিল এককেন্দ্রিক যার কোন মূল্যই ছিল না পূজার কাছে, মোহন একাই পূজার স্বপ্নে বিভোর ছিল।মোহন যেকোন কাজের সিদান্ত একা নিতে পারত না সে সব সয়ম পূজার থেকে সাহায্য চাইত। পূজার যুক্তিটা তার কাছে সব সময় সঠিক ও নির্ভুল মনেহত কারন সে প্রচন্ড বিশ্বাস করত পূজাকে। মোহন সর্বদাই সম্মান করত পূজাকে কিন্তু তার দেহের প্রান সঞ্চারিনী পূজা কি কোনদিনও বুঝতে পারবে না তার ভিতরে যে অব্যক্ত কথার কষ্ট জমে জমে পাহাড় হয়ে গেছে! মোহন নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে, পূজার জন্য সবকিছু সহ্য করতে রাজি তবোও পূজাকে হারাতে চায় না! কোন কারনে মোহনের যখন মন খারাপ থাকত সে পূজার থেকে অনেক অনুপ্রেরনা লাভ করত।

সে নিজেকে এই ভেবে শান্তনা দিত যে তার মনের মানুষ প্রানের মানুষ তার সাথেই আছে সর্বদা থাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করছে। মোহন এটা কিছুতেই মানতে চাইত না যে পূজা তার হবে না কোনদিনও সে পূজাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখত সারাক্ষণ। তাদের সুখের সংসার হবে পূজা থাকে প্রচন্ড ভালোবাসবে, পূজার মতই এক দেবী ক্যনার পিতা হবে সে! মোহনের সারাদিনের সঙ্গী ছিল পূজার দেয়া কিছু স্থিরচিত্র, চিত্রাংকন ও সুধাভরা কন্ঠের মাধুরী মেশানো গান! পূজার সাথে একদিন কথা না বললে মোহনের অস্থির লাগতো, সে বার বার নক করত। মোহন প্রায়ই দেখা করার কথা বলত কিন্তু পূজা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত, অবশেষে মোহন একদিন বলেই দিলো আমরা দুজন কি কোনদিনও এক হতে পারি না! পূজা বলে তুমি এত নিচ তোমায় প্রানাধিক স্নেহকরি আর তুমি আমাকে নিয়ে কি সব নিচ চিন্তা ও বাজে কথা বলছ! মোহনের সব স্বপ্নের মৃত্যু হয় সেদিন! বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু্ও আজ হারাল বলে মনেহচ্ছিল মোহনের। পরদিন সকালে মোহন দেখল পূজা একটা মেসেজ করে থাকে ব্লক করে রেখেছে।পূজার মেসেজ টা ছিল এরুপ “তুমি বামন হয়ে আকাশের চাঁদ ধরতে চাও মূর্খ” ভালো থাক জীবনে অনেক বড় হও!

মোহন তার সীমানার বাহিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিল, তার প্রখর ইচ্ছা শক্তি থাকা সত্বেও প্রাচীর ভেদ করতে পারল না! মোহনের এককেন্দ্রিক ভালোবাসার কোন মূল্যই ছিল না পূজার কাছে। মোহন তার ছোট দুটি চোখ দিয়ে সুবিশাল আকাশের সীমানাটা ধরে রাখার ক্ষমতা রাখত কিন্তু স্পর্শ করতে পারেনি কোনদিনও ঠিক একই ভাবে তার হৃদয়েশ্বরী পূজাও চিরদিনই সীমানার বাহিরেই রয়ে গেল!

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
শিল্প-সাহিত্য বিভাগের আলোচিত
ওপরে