১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে নদী ভাঙ্গনের কবলে দোকনঘর নদীগর্ভে ফেরি... বগুড়ায় বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মাদ্রিদে বাংলাদেশী মালিকানাধীন ভূঁইয়া মনি... এক নজরে বরগুনা পৌরসভা ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কর্মসূচী মোগলগাঁও ইউনিয়নে...

স্বাধীন বাংলার মহান স্থপতির জন্মদিন আজ

 অনলাইন ডেস্কঃ সমকালনিউজ২৪
স্বাধীন বাংলার মহান স্থপতির জন্মদিন আজ

আজ ১৭ মার্চ স্বাধীন বাংলার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও সায়রা খাতুনের ঘর আলো করে জন্ম নেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট এই বাঙালি। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু -এই দু’টি শব্দ যেন একটি আরেকটির প্রতিশব্দ। বঙ্গবন্ধুর জীবনী মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস; বাংলাদেশের মানুষকে বুঝতে হলে আপাদমস্তক বাঙালি এই ব্যক্তিত্বকে জানতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর শৈশব কেটেছে টুঙ্গিপাড়া গ্রামেই। সারা গ্রামে তার পরিচিতি ছিলো ‘খোকা’ নামে। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। বড়দের সম্মান করা আর ছোটদের ভালোবাসা তিনি শিখেছিলেন পরিবার থেকেই। গ্রামের মানুষ যেমন তার কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি পরবর্তী জীবনে যখন তিন পুরোদস্তুর রাজনীতিক, তখনও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান ও অনুজপ্রতীমদের স্নেহ দিয়ে মন জয় করে নিতে ভোলেননি তিনি।

যে সময়টাতে বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়, তখন ব্রিটিশ ভারত যেন অগ্নিগর্ভ। পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর থেকে তার সময় পর্যন্ত ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ, ফরায়েজী আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলনসহ বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বারবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেয়েছে বীর বাঙালি। তাই মজনু শাহ, তিতুমীর, ক্ষুদিরামের গল্প আর সে সময়কার পরিবেশ বঙ্গবন্ধুকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রাম করতে শিখিয়েছে। আর সে কারণেই পরবর্তী জীবনে কোনও শক্তির কাছে, সে যত বড়ই হোক, তিনি আত্মসমর্পণ করেননি; মাথা নত করেননি।

টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শৈশবেই ধনধান্যে-পুষ্পে ভরা সবুজ-শ্যামল বাংলার রূপ দেখেছেন বঙ্গবন্ধু। একদিকে তিনি রূপসী বাংলার প্রেমে পড়েছেন, অন্যদিকে ব্রিটিশ ভারতের জমিদার-মহাজনদের শোষণ-নিপীড়ন দেখে ভেবেছেন কামার, কুমার, জেলে, তাঁতী, চাষী, মজুরের মুক্তির কথা। যেখানে শোষক আর শোষিত বলতে কেউ থাকবে না -এমন একটা ‘সকলের সমাজ’ গড়ার স্বপ্ন কিশোর মনে গেঁথে গিয়েছিলো তার।

গ্রামের হিন্দু, মুসলমানের সম্মিলিত সামাজিক আবহে তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানবতাই ধর্মের মূল। তাই তো অসাম্প্রদায়িকতার প্রশস্ত বুক দিয়ে আগলে নিতে চেয়েছেন সব ধর্মের মানুষকেই। শোষক শ্রেণিকে তিনি ‘শয়তান’ জ্ঞান করতেন, তাই শোষণের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ করাকেই ‘ফরজ’ বলে জ্ঞান করতেন তিনি।

বস্তুত টুঙ্গিপাড়ার সেই ছোট্ট খোকার মনেই গ্রথিত হয়েছিলো ভবিষ্যতের বঙ্গবন্ধুর গুণাবলী। তাই তো বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেড়িয়ে বাঙালির কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের মন্ত্র। তাই তো ইতিহাসের ক্রান্তিলগ্নে তারই কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়েছিলো পরাধীনতার শিকল ভাঙার সিংহনাদ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর যেন বাঙালি পেয়েছিলো খাঁটি এক নেতাকে, যার নামে মতাদর্শের ভেদাভেদ ভুলে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, যার ডাকে প্রাণের মায়া ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে।

আজ সেই নেতার জন্মদিন, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না; চাষাভূষার ছেলে বলে বাঙালিকে অবজ্ঞা করা হতো আজও। তার জন্ম হয়েছিলো বলেই বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে বলতে পারি, আমি বাংলাদেশি। ১৬ কোটি বাঙালির হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে তার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
জাতীয় বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে