২৬শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
কলাপাড়া হাসপাতালে ডাক্তার সংকট অথচ বদলির হিড়িক না’গঞ্জে গোল্ডেন চেস আন্তজার্তিক রেটিং দাবায় হানিফ... আমতলীতে চো’রাই গরু উ’দ্ধার শার্শা উপজেলার সকল কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় করলেন... মতলবে ফলদ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন- এমপি নুরুল আমিন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সমকালনিউজ২৪
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকার গঠনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসেছেন।

 

রোববার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চলমান কার্যক্রম ও অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী তদারকি করবেন।এছাড়া মন্ত্রণালয়ের একশ দিনের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

 

আরও পড়ুনঃ যশোরের বেনাপোল পদ্মবিল এখন দেশি বিদেশি পাখির অভয়াশ্রম।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনে ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্ব পেয়েছে। ইশতেহার বাস্তবায়নেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিবেন।

 

এর আগেও জনপ্রশাসন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ।

 

‘আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেন, ‘আপনারা টানা তৃতীয়বার এবং ১৯৯৬ সাল থেকে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনাদের এবারের এই নিরঙ্কুশ সমর্থন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’ ‘আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি’।

 

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এই রায়কে দেশবাসীর সেবা এবং জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ও সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বলে মনে করি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।’

 

তিনি বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ শ্লোগান সংবলিত নির্বাচন ইশতেহার ঘোষণা করেছি। ইশতেহার ঘোষণাকালে আমি এর সারাংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা অনেকেই এই দলিলটি ইতোমধ্যে পড়েছেন।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের যেকোন নীতিমালা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ইশতেহারটি পথ-নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।’

 

তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বিস্তার, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশ বিগত দশ বছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শুধু এশিয়ার দেশগুলোরই শীর্ষে নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাই বাংলাদেশকে চেনেন ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই পথচলা মসৃণ ছিল না। শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি। যার সুফল আজ জনগণ পাচ্ছেন। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এ অর্জন দেশের প্রতিটি পরিশ্রমী মানুষের।’

 

তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১.৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে যা ২০০৫-৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’

 

বিএনপি সরকারের ২০০৫-৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাজেটের আকার ৭.৬ গুণ বৃদ্ধি করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমরা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। যার নব্বই ভাগ বাস্তবায়ন হয় নিজস্ব অর্থায়নে। কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না।

 

তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ২৩তম স্থান দখল করবে।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এইচ.বি.এস.সির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘দশ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমান এখন অনেক উন্নত। এখন মানুষ সুন্দর করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। তাই সামনে অনেক কাজ আমাদের। আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সেই বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া ‍প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে একযোগে সম্প্রচার করেছে।

 

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটিই জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম ভাষণ।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোট পায় ২৮৮ আসন। ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। এরই মধ্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে