২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনা থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কা’রাগারে পাঠানো হল... বগুড়ায় স্ত্রী হ’ত্যার দায়ে স্বামীর মৃ’ত্যুদন্ড বরগুনায় তরুণ সমাজ সেবক সবুজ খান পিরোজপুরের আবির মোহাম্মদ হোসেন জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি... ঝালকাঠিতে ইলিশ শিকারের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই...

১৩ বছর পর দেশে অন্যরকম জন্মদিন

  সমকালনিউজ২৪

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন। ২০০৭ সালে তার জন্মদিন কেটেছে সংসদ ভবন এলাকায় সাবজেলে। পরের বছর লন্ডনে। এরপর থেকে টানা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে তাকে দেশের বাইরে থাকতে হয়। ফলে কখনো উড়োজাহাজে কখনো বিদেশে পরিবারের সঙ্গে জন্মদিন কেটেছে প্রধানমন্ত্রীর। ১৩ বছর পর এই প্রথম তিনি জন্মদিন কাটাবেন দেশে। অবশ্য কখনো ঘটা করে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করতে দেখা যায়নি। এবারও এ উপলক্ষে নেই তেমন কোনো আয়োজন।

১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার নিভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন রাজনীতির বাঁক বদলে অসামান্য অবদান রাখা শেখ হাসিনা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে মধুমতী নদীর তীরবর্তী গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায়। তার জীবন বাবার মতোই সংগ্রামী। বাবা শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন রূপায়ণের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারি এখন তিনি।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় সভাপতির জন্মদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সীমিতসংখ্যক নেতার অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। এছাড়া বাদ জোহর কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ও দেশের সব মসজিদে হবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার (মেরুল বাড্ডা), ১০টায় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ (২৯ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০), ৬টায় তেজগাঁও জকমালা রানীর গির্জা এবং বেলা ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশে সব সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, বিশেষ প্রার্থনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালন করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীসহ সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থার সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি পালন করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, বাঙালিকে অনেক কিছু দিয়েছেন। যার একটি উদাহরণ ’৭৫ থেকে ’৯৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ যে মিনি পাকিস্তান হতে যাচ্ছিল সেখান থেকে দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছেন। এবার নিয়ে ১৭বার জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। এগুলো হলো মোটা দাগের অর্জন। এছাড়া টানা ৩৯ বছর আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলো এর নিচে কোনো চারাগাছ জন্মায়নি।’ এই ইতিহাসবিদ আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু নেতা ছিলেন, নেতৃত্বও তৈরি করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হলো তিনি মানবিক, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী নেতা।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাই। যদিও আমার জন্মদিনে উনি শুভেচ্ছা জানান না, জানালে আরও খুশি হতাম। মূল্যায়ন করার মতো কোনো উপলক্ষ নয় এখন।’

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় যখন ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন তখন থেকে আজ পর্যন্ত উনার রাজনীতির, সংগ্রামের সহযোদ্ধা আমি। দীর্ঘ রাজনীতির উত্থান-পতনের সুখ-দুঃখের সাথী। জন্মদিনে উনার দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

জাসদ আরেক অংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা রাজনীতিক হিসেবে সফল। দলের নেতৃত্ব নেওয়ার পর উনি বিভক্ত ও হতাশ আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ক্ষমতায় এনেছেন। উনার রাজনীতির আরেক সফলতা হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন শেখ হাসিনা। উনার দীর্ঘজীবন কামনা করি। এ জন্মদিনে উনার কাছে চাওয়া হলো সংসদীয় ব্যবস্থা সচল করুন। তাহলে রাজনীতির জন্য কল্যাণ হবে।’

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। আর একই বছরের ১৭ মে ছয় বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন। সেই থেকে সংগ্রাম শুরু। আওয়ামী লীগকে ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়েছেন। কখনো ভোটের লড়াই, কখনো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে। মৃত্যুর মুখোমুখিও হতে হয়েছে অসংখ্যবার। তবুও থেমে থাকেননি বঙ্গবন্ধুকন্যা। ১৯৮৬ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে সামরিক একনায়কবিরোধী ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন সফলতার সঙ্গে। পরের বছর ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। তার সরকারের আমলেই ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি। সম্পাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। বাংলাদেশ অর্জন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতি নেমে আসে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশে। দারিদ্র্য হ্রাস পায়। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্রীড়াসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার প্রথমবারের (১৯৯৬-২০০১) শাসনকাল চিহ্নিত হয় ’৭৫-পরবর্তী সময়ের স্বর্ণযুগ হিসেবে।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই নির্বাচনে ষড়যন্ত্র ও কারচুপির মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও ভোটের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা। আন্দোলন করতে হয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ৫০০ নেতাকর্মী আহত হন। এরপর ২০০৭ সালের ১/১১-এর পর শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্তও করে সেনাসমর্থিত ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরতে চাইলে বেআইনিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিশ্ব জনমত গঠন করে একই বছর ৭ মে দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। একই বছরের ১৬ জুলাই নিজ বাসভবন সুধা সদন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শেখ হাসিনাকে। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় একটি অস্থায়ী কারাগারে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে করা হয় একের পর এক মামলা। কারাগারে তার জীবননাশের ষড়যন্ত্রও চলে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চলতে থাকে গণসংগ্রাম ও আইনি লড়াই। আওয়াজ ওঠে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন নয়। বদলে যায় দৃশ্যপট। ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি লাভ করেন তিনি।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা।

ডিজিটাল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এ নেতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এসএমই খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে তিনি মানবিক নেতা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘ, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনি নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে কৃষি ও শিল্পসহ অর্থনৈতিক খাতগুলোতে সময়োপযোগী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন; যা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়। যার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদনে বলা হয়।

শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ শেখ হাসিনারা পাঁচ ভাইবোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন্নেছাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টো রোডের বাসায় বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলীর নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয় (এখন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে খ্যাত)। শুরু হয় তার শহরবাসের পালা। তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। একই বছরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্রসংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ছয় দফা দাবিতে পূর্ববাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশ) এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে, শুরু হয় দমন-নির্যাতন। আটক থাকাবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে। তার জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর বিপদশঙ্কা ও দুঃখ-যন্ত্রণা। এই ঝড়ো দিনগুলোতেই বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দি অবস্থায় তার প্রথম সন্তান ‘জয়’-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যাসন্তান পুতুলের জন্ম হয়। ১৯৭৫ সালে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। সেখানে অবস্থানকালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার খবর পান তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে