২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
মিলার স্বামীকে খোলামেলা ছবি পাঠাতেন নওশীন! অবশেষে শপথ নিলেন আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরকান বরগুনায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মানববন্ধন মঠবাড়িয়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে... মধ্যরাতে বন্ধ হচ্ছে ২২ লাখ ৩০ হাজার সিম

১৬ মাস বেতন ভাতা বন্ধ;শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন- ভাতার দাবীতে অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য ক্লাশ বর্জন

 হায়াতুজ্জামান মিরাজ,আমতলী, বরগুনা সমকাল নিউজ ২৪

বরগুনার আমতলী মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক- কর্মচারীরা বেতন পান না ১৬ মাস। বেতন- ভাতার দাবীতে বুধবার থেকে অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য ক্লাশ বর্জন শুরু করেছে।

জানাগেছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহআলমকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি’র সভাপতি জাকিয়া এলিচ গত ২৭ মে ২০১৭ ইং তারিখ কোন কারন না জানিয়েই বীনা নোটিশে প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। এ অব্যাহতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক গত ৮ জুন ২০১৭ ইং তারিখ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। গত ২৪ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ প্রধান শিক্ষক শাহআলমের অব্যাহতি অবৈধ ঘোষনা করে তাকে স্বপদে বহালে হাইকোর্ট রায় প্রধান করেন। কিন্তু এ আদেশ অমান্য করে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাকিয়া এলিচ প্রধান শিক্ষককে স্ব-পদে বহাল করেনি। এ নিয়ে গত বছরের ৬ মার্চ প্রধান শিক্ষক শাহআলম ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননা করার জন্য পুনঃরায় একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। এ রিটের পরিপেক্ষিতে আদালত গত বছরের ২২ মে প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের এ আদেশের পরেও প্রধান শিক্ষক শাহআলমকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকিয়া এলিচ। সভাপতি জাকিয়া এলিচ সুপ্রীম কোর্ট আপিল বিভাগে এ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। আপিল নং ৪৭৫২/২০১৭।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি উচ্চ আদালতে আদেশ অমান্য করে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। এনিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। সে কারনে জেনারেল ও কারীগরি শাখার ২৫ জন শিক্ষক- কর্মচারী গত ১৬ মাস ধরে বিদ্যালয়ের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক- কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শিক্ষকদের বেতন ভাতার দাবীতে বুধবার থেকে অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য ১৬ জন শিক্ষক- কর্মচারীরা ক্লাশ বর্জন শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় এলেও কোন ক্লাশ হয়নি। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা বাড়ী ফিরে গেছেন।
সপ্তম শ্রেণীর তাহিরাতুল, সায়েলা, ফারজানা, অষ্টম শ্রেণীর স্বর্ণা, নবম শ্রেণীর মৌটুসী, দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিমা আক্তার ও দিপা জানান, আমরা বিদ্যালয়ে আসলেও স্যারেরা কোন ক্লাশ নেয়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান কবির (বিএসসি) ও রেজাউল করিম বাদল জানান গত ১৬ মাস ধরে বেতন ভাতা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন- যাপন করছি। বাধ্য হয়ে বুধবার থেকে অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য ক্লাশ বর্জন শুরু করেছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, ক্লাশ বর্জনের বিষয়ে আমার জানা নেই। শিক্ষকদের একাংশ ক্লাশ বর্জন করলেও করতে পারে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকমল হোসেন বলেন ক্লাশ বর্জনের কথা শুনেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে