২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আক্কেলপুর পৌর মেয়রের সচেতনতায় লবণ লঙ্কায় দিশেহারা হয়নি... লবণের দাম বৃদ্ধি গুজবে বেনাপোল বাজারে ক্রেতাদের ভিড় দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বাজার মনিটরিংয়ে ইউএনও, ৭... ঠাকুরগাঁওয়ে অতিরিক্ত মূল্যে লবন বিক্রি : তিন ব্যবসায়ীর... চাঁদপুরের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে মা’দক বি’রোধী...

৭ম দিনেও উত্তাল বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাস ভিসির অপসারনই একমাত্র সমাধান শিক্ষার্থীদের ঘোষনা : ক্যাম্পাসে ঝাড়– মিশিল

 এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ:: সমকালনিউজ২৪

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা আন্দোলন সফল করতে মরনপণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারন শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে ৭ম দিনের মতো আন্দোলন চলছে।

বুধবার সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নাসির উদ্দিনের পদত্যাগই এর একমাত্র সমাধান বলে ঘোষনা দিয়েছেন তারা।

বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এমএসসি গণিত বিভাগের ছাত্র মো: আল গালিব। লিখিত বক্তব্যে মো: আল গালিব বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক স্বৈরাচারী ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি, যার নৈতিক স্খলন চরম পর্যায়ে। আমরা তার বন্দি জিঞ্জির থেকে মুক্ত হওয়ার আন্দোলন করছি। আমাদের এক দফা এক দাবি দুর্নীতি গ্রস্থ এই ভিসির পদত্যাগ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বৈরাচারী কায়দায় ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিন মুক্তমনা শিক্ষক ও সমস্ত শিক্ষার্থীকে দমিয়ে রেখে শিক্ষার পরিবেশ কলুষিত করে যাচ্ছেন। এ কারণে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছি।

তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন, গত সাত দিন ধরে বিনা বিরতিতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। এতে সংহতি প্রকাশ করেছে সব বিশ্ববিদ্যালয়সহ বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ। এই আন্দোলনে বিঘœ ঘটাতে আমাদের ওপর নির্যাতন ও হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের কোণঠাসা করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান। এ সময় আইন বিভাগের ছাত্র শফিকুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল রাফি, নাহিদ মোল্লা, লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্রী রেহেনুমা তাবাসসুমসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সাথে টেলি কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কথা বলেন বলে জানা গেছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী সাধারন শিক্ষার্থীদের দাবী ও আন্দোলনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা শিক্ষা উপমন্ত্রীর সাথে শিক্ষক প্রতিনিধি দলের টেলিকনফারেন্সিং আয়োজন করেন। এরআগে, জেলা প্রশাসক ওই শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সাথে দফায় দফায় আলোচনা ও বৈঠকে বসেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগ দাবির চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ঝাড়ু নিয়ে মিছিল করেছেন। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা একটি ঝাড়ু মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

উল্লেখ, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে জয় বাংলা চত্বর,একাডেমিক ভবন সংলগ্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারের সময় ভিসি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় এ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, এ বক্তব্যে তিনি (ভিসি) আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি আমাদের অভিভাবক হওয়ার কোনও যোগ্যতা রাখেন না। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রথম আন্দোলন শুরু হয়। গত সাতদিন ধরে আন্দোলন চলছে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তারা জানিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় কোন মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ মোঃ মনিরুল ইসলাম। এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগত ক্যাডারদের হামলার ঘটনায় এখনও কোন মামলা দায়ের না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজ।

উদীচীর জেলা শাখার সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগত হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা হওয়ার উচিৎ ছিল। বহিরাগত ক্যাডাররা এখনো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি দিচ্ছে বলে শুনা যাচ্ছে।

অপরদিকে, নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারন ডায়েরী করেছেন পদত্যাগী সহকারী প্রক্টর মো: হুমায়ূন কবীর। গোপালগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা ওই সাধরন ডায়েরীতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে তিনি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ভিসি’র লোকজন তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদর্শন করছে।

ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পৃথক দু’টি টীম বুধবার গোপালগঞ্জে আসার কথা রয়েছে বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে।

 

‘বিদ্রঃ সমকালনিউজ২৪.কম একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা। সমকালনিউজ২৪.কম এর সাথে দৈনিক সমকাল এর কোন সম্পর্ক নেই।’

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
গোপালগঞ্জ বিভাগের সর্বশেষ
গোপালগঞ্জ বিভাগের আলোচিত
ওপরে